দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশির মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৫ জুন- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ৪ জুন- বাংলাদেশ ২০০৯-২০২৪ সময়ে উন্নয়নের ধারায় ছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শতভাগ বিদ্যুৎ- এগুলো জাতীয় অর্জন। কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪ সংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতার বড় ঘটনা ঘটে।
কোটা থেকে অস্থিতিশীলতা
দেশের আপামর জনগোষ্ঠী মনে করে ২০২৪-এর জুন-জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুতে যৌক্তিক দাবি নিয়ে হলেও পরে পূর্বপরিকল্পিত অস্থিতিশীলতার রূপ নেয়। কোর্টের রায় ও সংলাপের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছু গোষ্ঠী কোটাকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “এক দফা” আন্দোলনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও সহযোগী সংগঠনের সক্রিয়তা ছিল। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা আজও সংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানে দেখা যায়।
৫ আগস্ট: পদত্যাগের প্রশ্নে ৩টি তথ্য-যুক্তি
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সংবিধানের ৫৭(২) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত, রাষ্ট্রপতির কাছে জমাকৃত পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসেনি। তাই “পদত্যাগ” শব্দটি সাংবিধানিকভাবে বিতর্কিত।
নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে “Executive Exile” ধারণা আছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে নেওয়ার নজির পৃথিবীতে আছে। জনগণের ভাষ্য: ৫ আগস্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে সরিয়ে ভারতের দিল্লির গাজিয়াবাদে নিরাপত্তার স্বার্থে রাখা হয়, পদত্যাগের শর্তে নয়।
রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা: ৫ আগস্টের পর “অন্তর্বর্তী সরকার” ঘোষণা হলেও রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগ, সচিবালয় বিলুপ্ত হয়নি। ৫৬(৩) অনুযায়ী মন্ত্রিসভা ভাঙলে রাষ্ট্রপতির নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু “অন্তর্বর্তী” শব্দ ব্যবহার—জনগণের কাছে এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিচ্যুতি।
আত্মসমালোচনা ও শিক্ষা
দেশের মানুষ স্বীকার করে—তৃণমূলের বার্তা ওপর পর্যন্ত না পৌঁছানো, ছাত্রসংগঠনে অনুপ্রবেশ রাষ্ট্র পরিচালনাকে কঠিন করেছে। “নিজ ঘরে ফাটল” থাকলে বাইরের শক্তি সুযোগ নেয়।
দেশের আপামর জনগোষ্ঠী মনে করে—৫ আগস্ট ছিল সংবিধানিক ধারাবাহিকতার সাময়িক ব্যাঘাত। জামায়াত-শিবিরের মেটিকুলাস ডিজাইন, দেশি-বিদেশি চাপ, রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্বলতা—এই তিনটি মিলে পরিস্থিতি জটিল করেছে। কিন্তু জনগণের বিশ্বাস: বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়নের ধারা মুছে ফেলা যাবে না। সংগঠন গোছাতে হবে, অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে হবে, মানুষের পাশে থাকতে হবে। ইতিহাস, সংবিধান ও আদালতই একদিন চূড়ান্ত রায় দেবে।
লেখক- সরদার সেলিম রেজা; কবি ও পরিবেশ কর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au