মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাউবি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের শিক্ষা থেকে দূরে না রেখে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগ্রহী তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম ও সহযোগিতার সুযোগ সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।
এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদ, রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক আবু হাফিজ মো. ফজলে নিজামী এবং যুগ্ম পরিচালক মো. আজিজার রহমান।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি উপাচার্য সৈয়দপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, টিউটর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মানসম্মত পরিচালনা নিশ্চিত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীসেবা উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরলে উপাচার্য সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য।
দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে উপাচার্য নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া-এর জন্মস্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ-এর সমাধিস্থলে গিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং উপাচার্যের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।