জয়পুরহাটে ধান কাটা নিয়ে তর্কের জেরে দিনমজুরকে হত্যা
মেলবোর্ন, ৭ জুন- জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিড়া…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি অদ্ভুত নামের অনলাইন আন্দোলন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হয়েও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে কোটি মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে এই ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব, রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক ক্ষোভকে হাস্যরসের মাধ্যমে প্রকাশ করায় সিজেপি এখন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা বোস্টন ইউনিভার্সয়ের শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানান, মূলত মজার ছলেই এই প্ল্যাটফর্মের ধারণা মাথায় আসে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি লাখো তরুণের সমর্থন পেয়ে একটি জাতীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।
সিজেপির সদস্যপদের শর্তও বেশ ব্যতিক্রমী। নিজেদের ওয়েবসাইটে তারা দাবি করেছে, সদস্য হতে হলে বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় এবং অভিযোগ বা ক্ষোভ প্রকাশে দক্ষ হতে হবে। এসব শর্ত মূলত ব্যঙ্গাত্মক হলেও এর মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের হতাশা ও বাস্তবতাকেই তুলে ধরা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ম্যায়ভিককরোচ’ বা ‘আমিও ককরোচ’ হ্যাশট্যাগ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিজেপি বনাম সিজেপি’ লিখে পোস্ট করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা এক কোটির বেশি ছাড়িয়ে যায়। ফলে অনুসারীর সংখ্যার বিচারে এটি ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টকেও ছাড়িয়ে যায়। যদিও রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ও প্রভাবের সঙ্গে সিজেপির কোনো তুলনা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির জনপ্রিয়তার মূল কারণ ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ ভারত হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব সীমিত। কর্মসংস্থান সংকট, মূল্যস্ফীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে অনেক তরুণই নিজেদের অসহায় মনে করেন।
এই প্রেক্ষাপটে সিজেপি নিজেকে ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা নিজেদের ‘একগুঁয়ে মানুষের ঝাঁক’ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং যারা সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে হতাশ, তাদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
ককরোচ বা তেলাপোকাকে প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। তেলাপোকা এমন একটি প্রাণী, যা প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। সিজেপির সমর্থকদের মতে, বর্তমান সময়ের তরুণদের অবস্থার সঙ্গেও এই প্রতীকের মিল রয়েছে। নানা সংকটের মধ্যেও তারা লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে কিছু অসন্তুষ্ট তরুণকে ‘তেলাপোকার মতো ছড়িয়ে পড়া’ বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও সেই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেন, ওই মন্তব্যই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সিজেপির ভাষা ও উপস্থাপনা ইচ্ছাকৃতভাবেই রসিকতাপূর্ণ। তবে হাস্যরসের আড়ালে তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নির্বাচনী স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে আনছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এটি হয়তো দীর্ঘস্থায়ী কোনো রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে না। তবে অন্যদের মতে, সিজেপি ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। তা হলো, ভারতের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের কথা বলার নতুন ভাষা খুঁজছে এবং প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে।
সিজেপির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে অল্প সময়ের জন্য হলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ভারতের লাখো তরুণের হতাশা, ক্ষোভ এবং প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই ব্যঙ্গাত্মক এই আন্দোলনটি এখন ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au