শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে ফের ক্ষমতার পালাবদলের আশঙ্কা কতটা?
বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে আবারও রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে নর্থইস্ট নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী শরিফ রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তিন ব্রিটিশ নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির একটি আদালত। প্রায় তিন বছর আগে ওন্টারিও প্রদেশে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় কানাডা ও যুক্তরাজ্যজুড়ে আলোচিত তদন্ত, গ্রেফতার এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে।
৪৪ বছর বয়সী শরিফ রহমান ছিলেন একজন সফল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা। বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার পর অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কটল্যান্ডে গিয়ে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের দিকে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান এবং ওন্টারিওর ওভেন সাউন্ড এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি ‘দ্য কারি হাউস’ নামে একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন।
২০২৩ সালের আগস্টে ওই রেস্তোরাঁর বাইরে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন গ্রাহক খাবার খাওয়ার পর প্রায় ১৫০ কানাডীয় ডলারের বিল পরিশোধ না করেই চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে শরিফ রহমানের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে এবং তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা শরিফ রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ কানাডাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা কানাডা ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর কানাডীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, তারা স্কটল্যান্ডে আত্মগোপনে রয়েছে। এরপর আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
২০২৪ সালে স্কটল্যান্ড পুলিশের অভিযানে এডিনবরা থেকে গ্রেফতার হন ২৫ বছর বয়সী রবার্ট ইভান্স জুনিয়র ও তার বাবা ৪৯ বছর বয়সী রবার্ট বাসবি ইভান্স। একই সময়ে ডালকিথ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ৫৬ বছর বয়সী ব্যারি ইভান্সকে। তিনজনই ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা।
প্রাথমিকভাবে আসামিপক্ষ কানাডায় প্রত্যর্পণের বিরোধিতা করলেও পরে তারা স্বেচ্ছায় কানাডার বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে সম্মত হয়। স্কটল্যান্ডের আদালত তাদের প্রত্যর্পণের অনুমোদন দিলে তিনজনকেই কানাডায় পাঠানো হয়।
বিচার শেষে রবার্ট ইভান্স জুনিয়র ‘ম্যানস্লটার’ বা অন্যায়বশত নরহত্যার দায় স্বীকার করেন। অন্যদিকে তার বাবা রবার্ট বাসবি ইভান্স এবং চাচা ব্যারি ইভান্স অপরাধ সংঘটনের পর মূল আসামিকে পালাতে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ স্বীকার করেন।
আদালত দুই বয়োজ্যেষ্ঠ আসামির ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে কারাভোগ করা সময়কে শাস্তি হিসেবে গণ্য করে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। তবে আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তাদের কানাডিয়ান বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত রবার্ট ইভান্স জুনিয়র বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আগামী মাসে তার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সেদিন আদালত তার কারাদণ্ডের মেয়াদ নির্ধারণ করবেন।
শরিফ রহমানের পরিবার ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি আশা করছে, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিচার নিশ্চিত হবে এবং তারা ন্যায়বিচার পাবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au