অস্ট্রেলিয়া

আত্মসমর্পণ না করার কারণ হিসেবে আতঙ্কের কথা জানালেন দুই হত্যার আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

  • 5:55 pm - November 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭ বার
ফেলে আসা জিনিসপত্র আনতে গিয়ে আত্মরক্ষার্থে দুই ব্যক্তিকে হত্যার দাবি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সাবেক প্রেমিক জেসি বেয়ার্ড ও তার সঙ্গী লুক ডেভিসকে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিউ লামারে-কন্ডন আদালতে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাবেক প্রেমিককে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেননি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউ সাউথ ওয়েলসের সুপ্রিম কোর্টে বিচার চলাকালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৩১ বছর বয়সী লামারে-কন্ডন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিডনির একটি বাড়িতে জেসি বেয়ার্ড ও লুক ডেভিসকে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পৃথক দুটি ধস্তাধস্তির সময় দুর্ঘটনাবশত গুলি ছুটে তারা নিহত হন।

আদালতে লামারে-কন্ডন জানান, ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সাবেক প্রেমিক জেসি বেয়ার্ডের প্যাডিংটনের বাড়িতে যান তিনি। সম্পর্কের সময় সেখানে রেখে আসা নিজের কিছু জিনিসপত্র নিতে গিয়েছিলেন। তার ভাষায়, দিনটি স্বাভাবিকভাবেই কাটানোর পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু বাড়িতে গিয়ে সাবেক প্রেমিকের মুখোমুখি হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তার দাবি, বেয়ার্ড ছুরি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য তাকে লক্ষ্য করে দুবার গুলি করেন তিনি।

লামারে-কন্ডন বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বেয়ার্ড বেঁচে আছেন বলে মনে হয়েছিল তার। এ কারণে রান্নাঘর থেকে একটি ফোন নিয়ে জরুরি সেবা নম্বর ০০০-এ কল করার কথা ভাবেন। পরে রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনো অ্যাম্বুলেন্স থামানোর কথাও চিন্তা করেন।

তবে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আতঙ্কজনিত সমস্যায় তা করতে পারেননি বলে আদালতকে জানান তিনি।

সাক্ষ্যে লামারে-কন্ডন বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমি যেন নিজের শরীরের বাইরে চলে গেছি। ওপর থেকে নিজেকেই দেখছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সোফার কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ি। এরপর অজ্ঞান হয়ে যাই। কতক্ষণ অজ্ঞান ছিলাম, তা বলতে পারব না। পাঁচ মিনিটও হতে পারে, আবার ৪০ মিনিটও হতে পারে।’

লামারে-কন্ডনের বিরুদ্ধে তার সাবেক প্রেমিক জেসি বেয়ার্ড (বাঁয়ে) ও বেয়ার্ডের নতুন প্রেমিক লুক ডেভিসকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ছবিটি সরবরাহকৃত

তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, বাড়ির অন্য বাসিন্দারা চলে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন লামারে-কন্ডন। তাদের চলে যাওয়ার পর সাবেক প্রেমিককে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তিনি। এ অভিযোগ অস্বীকার করে লামারে-কন্ডন বলেন, বেয়ার্ডকে বাঁচানোর চেষ্টা করার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, জেসির কাছে গিয়ে বলছিলাম, দয়া করে ওঠো, দয়া করে মৃত হয়ো না।’

আদালতে লামারে-কন্ডন আরও জানান, প্যাডিংটনের বাড়িতে প্রবেশের আগে একটি ক্যাফেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে উবার ইটসের একটি মোটরসাইকেল দেখতে পান। এরপর খাবার সরবরাহকারী কর্মীর ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, যাতে বেয়ার্ড তাকে দেখে হয়রানির অভিযোগ না তোলেন।

তার ভাষ্য, মাথায় হেলমেট পরেছিলেন এবং বাহুর নিচে সার্ভিসের দেওয়া পিস্তলটি হোলস্টারে লুকানো ছিল। হেলমেটের ভিসর নামানো থাকায় বেয়ার্ড তাকে চিনতে পারেননি। এ সময় বেয়ার্ড চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমাদের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে।’

লামারে-কন্ডনের দাবি, বেয়ার্ড তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর দুজনের মধ্যে ছুরি নিয়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তিনি বারবার বেয়ার্ডকে ছুরি ফেলে দিতে বললেও তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে বেয়ার্ড তাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরেন এবং তার গলার কাছে ছুরি ধরে রাখেন।

এ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে লামারে-কন্ডন বলেন, ‘এই ধস্তাধস্তি যেন অনন্তকাল ধরে চলছিল। আমার মনে হয়েছিল, সে যদি ছুরিটা আমার গলায় ঢুকিয়ে দেয়, তাহলে আমি মারা যাব।’

তিনি জানান, তখন তার মধ্যে পুলিশের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করার প্রবণতা সক্রিয় হয়। তিনি পিস্তল বের করে বেয়ার্ডের কাঁধ লক্ষ্য করে গুলি করেন। তার দাবি, বেয়ার্ডকে অক্ষম করে ধস্তাধস্তি থামানোর উদ্দেশ্যেই গুলি চালিয়েছিলেন।

এরপর বেয়ার্ড পিস্তলের সামনের অংশ ধরে টান দিলে দুজন মাটিতে পড়ে যান। এ সময় দ্বিতীয়বার গুলি ছুটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

আদালতে চোখ মুছতে মুছতে লামারে-কন্ডন বলেন, ‘এটা আমার ভুল ছিল। তার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে হত্যা করিনি।’

তিনি হত্যার পরিবর্তে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

লামারে-কন্ডন আরও জানান, বাড়ির সামনের দরজার দিকে যাওয়ার সময় লুক ডেভিস নামের এক ব্যক্তির মুখোমুখি হন তিনি। ডেভিসের হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, যা তিনি বসার ঘর থেকে তুলে নিয়েছিলেন বলে ধারণা করেন লামারে-কন্ডন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডেভিস তার বুক লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করে বলেন, ‘আমি তোমাকে গুলি করব।’ তখন তিনি দুই হাত ওপরে তুলে গুলি না করার অনুরোধ জানান। কিন্তু ডেভিস বন্দুকটি তার মাথার দিকে তাক করে আবারও গালাগাল করেন।

লামারে-কন্ডন বলেন, এ সময় পুলিশের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী তিনি বন্দুকের নল নিজের দিক থেকে সরিয়ে ডেভিসের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ডেভিস ট্রিগার চাপ দেন বলে তার দাবি। গুলি ছুটে দরজার চৌকাঠে গিয়ে আটকে যায়।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ঈর্ষা ও অতিরিক্ত আসক্তি থেকেই জেসি বেয়ার্ডকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করেন লামারে-কন্ডন। এরপর ঘটনার সাক্ষী নির্মূল করতে দরজার মধ্য দিয়ে গুলি চালিয়ে লুক ডেভিসকেও হত্যা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, বেয়ার্ডকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ডেভিসকে হত্যা করা হয়েছিল। মামলায় এসব অভিযোগের বিচার চলছে।

সূত্র: নাইন.কম.এইউ

এই শাখার আরও খবর

চাঁদা না পেয়ে ফের হামলা, রায়েরবাজারে এজেআর কুরিয়ারের কাভার্ডভ্যানে আগুন

চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার মধ্যে রাজধানীর রায়েরবাজারে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িতে…

মেলবোর্নে বাড়িতে ছুরিকাঘাতে নারীসহ আহত ৩, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এক নারী; লকডাউনে পাশের স্কুল

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি বাড়িতে ছুরিকাঘাতে এক নারী ও দুই পুরুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় সতর্কতামূলক…

রোনালদোকে অবসর না নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন পর্তুগাল কোচ, যা বললেন জর্জ জেসুস

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পর্তুগাল জাতীয় দলের প্রধান কোচ জর্জ জেসুস। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে জাতীয় দল থেকে অবসর…

কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ ‘জয় বাংলা’ ও জাতীয় চার নেতার নাম

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি জাহাজ থেকে ‘জয় বাংলা’ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চার নেতার…

‘সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম’

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে না হলে পোশাকশ্রমিকদের মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হতো বলে মন্তব্য…

শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে আদালতে পরীমনি-কাণ্ড, কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত?

ভাস্কর দত্ত দেশে শ্রমিকদের আন্দোলন, বেতন-ভাতা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় অংশের মনোযোগ কেড়ে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au