বন্ধের দুই দশক পর জেএমবি নেতার মাদ্রাসা আবার সক্রিয় করল কারা?
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মাদ্রাসা প্রায় দুই দশক পর আবার…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আসন্ন সীমান্ত বৈঠককে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দিরে ভাঙচুর, শারীরিক নির্যাতন, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে যে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারি মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর মোট ১২৪টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯৫টিরও বেশি ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ১১৮টি ঘটনার মধ্যে ৮০টির বেশি এবং মার্চে ১১৭টি ঘটনার মধ্যে ৭৫টির বেশি হামলা হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ১৪৬টিতে পৌঁছায়, যার মধ্যে শতাধিক ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলাকে ভারত শুধু মানবাধিকার বা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না; বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত বলে বিবেচনা করছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা, সম্ভাব্য উদ্বাস্তু প্রবাহ, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, উগ্রপন্থা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নতুন উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ। ছবিঃ সংগৃহীত
বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির অবনতি হলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে ৮ থেকে ১১ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈঠকে সীমান্ত অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতীয় পক্ষ বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় তাদের নিরাপত্তা সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে যেখানে সম্ভব সেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হতে পারে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করছে, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ধাপে ধাপে নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে থাকে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে নয়াদিল্লির এই বৈঠক শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্রঃ এমএসএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au