মার্কিন হামলায় মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরব’
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক পাটনালা সুরেশের শেষ কথাগুলো এখনো ভুলতে পারছেন না তার স্ত্রী পাটনালা ভার্গবী। মাত্র কয়েকদিন…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি ডিফেন্ডার এবং ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এরসিলিও লুজ দে ব্রিতো, যিনি ফুটবলবিশ্বে ‘ব্রিতো’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন, মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ব্রিতোর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে। এক শোকবার্তায় সিবিএফ সভাপতি সামির শাওদ বলেন, “ব্রিতো আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্ব শিরোপা জয়ে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর লড়াকু মনোভাব ও আত্মনিবেদন আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ব্রিতো ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ছিলেন এমন এক ডিফেন্ডার, যিনি শক্তি, সাহসিকতা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে ব্রিতো ও উইলসন পিয়াজ্জার জুটি ছিল ব্রাজিলের রক্ষণভাগের মূল ভরসা। পিয়াজ্জা যেখানে কৌশলী ও নিখুঁত পাসিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন, সেখানে ব্রিতো ছিলেন শক্তিশালী ট্যাকল, আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা এবং শারীরিক দৃঢ়তার প্রতীক। তাঁদের নেতৃত্বেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।
১৯৭০ সালের সেই ঐতিহাসিক ব্রাজিল দলকে অনেকেই সর্বকালের সেরা জাতীয় দল হিসেবে বিবেচনা করেন। পেলে, জাইরজিনহো, রিভেলিনো, তোস্তাঁও ও কার্লোস আলবার্তোর মতো তারকাদের পাশে ব্রিতোও ছিলেন দলের অপরিহার্য সদস্য। তাঁর অবদানে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে স্থায়ীভাবে জুলে রিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয়।
ফুটবল ক্যারিয়ারে ব্রিতো শুধু জাতীয় দলেই নয়, ক্লাব ফুটবলেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেন এবং নিজের দৃঢ় রক্ষণভাগের খেলার জন্য সমর্থকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
তাঁর মৃত্যুতে ব্রাজিলের সাবেক ও বর্তমান ফুটবলার, কোচ, ক্রীড়া সংগঠক এবং সমর্থকেরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে স্মরণ করছেন ব্রাজিলের স্বর্ণযুগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।
এদিকে ব্রিতোর মৃত্যুর খবর এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল। শনিবার মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এই কিংবদন্তির বিদায় দেশটির ফুটবল অঙ্গনে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে।
ফুটবলবিশ্বে ব্রিতোর নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে একজন নির্ভীক ডিফেন্ডার, বিশ্বকাপজয়ী যোদ্ধা এবং ব্রাজিলের সোনালি প্রজন্মের গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁর অবদান ও অর্জন আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au