মা-মেয়েকে হত্যার কারণ জানালো ঘাতক
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র এক লাখ ১৭ হাজার টাকার ঋণের দলিল (স্ট্যাম্প) হাতিয়ে…
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও এক্সসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। নতুন এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স যাচাইয়ের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে মুখমণ্ডল স্ক্যান, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য সরকারি নথির মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে এসব নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কোনো ধরনের আপস করতে প্রস্তুত নয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করে সরকার।
যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে দ্রুত একটি সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের পরিচয় ও বয়স যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার আওতায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট এবং এক্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম আপাতত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়নি।
এর আগে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে যুক্তরাজ্যে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এবার সেই নীতির পরিধি বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের অতিরিক্ত সময় ব্যয়, সাইবার বুলিং, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসার ঘটনা বাড়তে থাকায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
তবে মানবাধিকার ও গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সব বিতর্কের মধ্যেও শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে বিশ্বের অন্যতম কঠোর সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও একই ধরনের আইন প্রণয়নে উৎসাহিত করতে পারে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au