মা-মেয়েকে হত্যার কারণ জানালো ঘাতক
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র এক লাখ ১৭ হাজার টাকার ঋণের দলিল (স্ট্যাম্প) হাতিয়ে…
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কোনো চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই চুক্তি মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইতামার বেন গভির বলেন, ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসরায়েলের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো চুক্তির অংশ নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। আমাদের সেনারা লেবাননে যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার কোনো কারণ নেই। হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার আগে আমরা কোনো আপস করব না।”
বেন গভির আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী যে অঞ্চলগুলোকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো থেকে মুক্ত করেছে, সেগুলো থেকে পিছু হটলে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত আবারও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তার মতে, লেবানন সীমান্তের কাছে পুনরায় সশস্ত্র যোদ্ধাদের অবস্থান নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে তা ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইসরায়েলের দিকে গুলি ছোড়া হলে আমরা নীরব থাকব না। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে একই দিনে ইসরায়েলের বিরোধী শিবির থেকেও ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা ইয়ার গোলান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন।
ইয়ার গোলান অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অর্জিত সামরিক সাফল্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সেনা সদস্য ও পাইলটদের ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য যখন মুছে ফেলা হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব থেকেছেন।”
তার দাবি, নেতানিয়াহু এমন একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে সরকারপন্থী কট্টরপন্থি নেতারা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবির সরকারপ্রধানের কৌশল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ফলে যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au