হত্যাকাণ্ডের শিকার এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র এক লাখ ১৭ হাজার টাকার ঋণের দলিল (স্ট্যাম্প) হাতিয়ে নিতে গিয়ে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও নিহত এনির মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়া আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত এনি বড়ুয়ার চাচাতো দেবর। তিনি হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন সাবেক নেতাও ছিলেন তিনি।
গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। হামলায় গুরুতর আহত হয় এনির পাঁচ বছর বয়সী ছেলে, যদিও সে প্রাণে বেঁচে যায়। ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে অটোরিকশা কেনার জন্য এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তেজু বড়ুয়া। এ ঋণের বিপরীতে একটি স্ট্যাম্প বা লিখিত চুক্তিপত্র করা হয়েছিল। ঋণের টাকা নিয়মিত পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতেই পরিকল্পনা করে তেজু বড়ুয়া। তার ধারণা ছিল, ঋণের স্ট্যাম্পটি চুরি করতে পারলে পাওনাদারের কাছে আর কোনো প্রমাণ থাকবে না। সেই উদ্দেশ্যে তিনি একটি ছুরি নিয়ে রাতে এনিদের বাড়ির পেছনে ওত পেতে থাকেন।
রাত পৌনে ১১টার দিকে এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হলে তেজুকে দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তখন ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তেজু তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। মায়ের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন কিশোরী প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। তাকেও নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ে প্রাণ হারান।
হত্যাকাণ্ডের পর এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। পরে পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় পটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তেজু বড়ুয়া। তার দেখানো স্থানে বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং পটিয়া রেললাইনের পাশের ডোবা থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়া আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।