সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগে বাংলাদেশে প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) দুইজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার পর দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচারিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই সাংবাদিক হলেন ফারজানা রুপা, জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক এবং মোজাম্মেল হক বাবু, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের সহিংস ঘটনার সময় এবং পরবর্তী সময়ে তথ্য বিকৃতি ও ঘটনাকে আড়াল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সাংবাদিকরা ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরের একটি সহিংস ঘটনার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। ওই সময় হেফাজতে ইসলাম সমর্থকদের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের আইনজীবীরা বলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাংবাদিকতার সীমাকে অপরাধ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। আইনজীবী হামিদুল মিশবা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত।
প্রসিকিউশন পক্ষের প্রধান আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, ওই সাংবাদিকরা ঘটনার তথ্য গোপন ও বিকৃত করেছেন এবং জনমত প্রভাবিত করেছেন, যা তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ক্যাম্পেইন ফর প্রেস ফ্রিডম এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে বলেছে, সাংবাদিকতার কাজকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁরা সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে সাংবাদিকরা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করতে আরও বেশি ভয়ের মধ্যে পড়বেন।
এই মামলার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা, সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে।