মমতা ব্যানার্জী ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে পরাজয়ের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী ফলাফলের বিরুদ্ধে হলফনামা দাখিল করেন।
আদালতে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষ ও দোলা সেন। মামলায় ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এই কেন্দ্র থেকে তিনি একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং এর আগে কখনও পরাজয়ের মুখ দেখেননি। ফলে এবারের পরাজয় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। অবশেষে তিনি আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তির পথ বেছে নিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর ২০২১ সালেই ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়ে পুনরায় বিধানসভায় ফিরে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পাঁচ বছর পর একই ভবানীপুর কেন্দ্রে তার পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে এই আইনি লড়াই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এবং আগামী দিনগুলোতে বিষয়টি রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।