বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে মেসি। ছবি সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একই সঙ্গে গড়েছেন একাধিক অনন্য রেকর্ড।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়েন।
রেকর্ড গড়ার দিনে গোলের খাতাও দ্রুত খুলে ফেলেন তিনি। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে আলজেরিয়ার জালে বল পাঠিয়ে নতুন আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় নাম লেখান। এর আগে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও গোল করেছিলেন তিনি। কেবল ২০১০ বিশ্বকাপেই গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে সেদিনের আসল নাটক ছিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। আক্রমণের পর আক্রমণে আলজেরিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন মেসি। একের পর এক সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেও গোল করে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে দারুণ এক গোল করে পূর্ণ করেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেন মেসি। ফলে ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিওর ১৫ গোলকে ছাড়িয়ে যান তিনি। একই সঙ্গে জার্মানির সাবেক তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করেন। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
হ্যাটট্রিক পূরণের পর স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে কোচ তাকে মাঠ থেকে তুলে নিলে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন’। মেসিও হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এদিন আরও একটি বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। এই তালিকায় তার আগে ছিলেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রভাব ধরে রাখা মেসি এদিন যেন আরেকবার প্রমাণ করলেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে নিচ্ছেন না, নিজের কিংবদন্তিকেও আরও সমৃদ্ধ করে তুলছেন।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিক তাই শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসির আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই স্থান করে নিল।