রাষ্ট্রপতির শপথ আজ সন্ধ্যায়, প্রস্তুত বঙ্গভবনের দরবার হল
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের বাড়ির যাতায়াতের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মন্টু কর্মকারের পরিবারের সদস্যরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বাড়ির শৌচাগার ও নলকূপও বেড়ার বাইরে থাকায় দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কর্মকারপাড়ায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী রফিক মিয়ার পরিবারের লোকজন গত ৯ আগস্ট তাঁদের বাড়ির দরজার সামনে ও উঠানের চলাচলের পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে দেন। একই সঙ্গে বাড়ির শৌচাগার ভেঙে ফেলা এবং নলকূপ টিন ও ময়লা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা মন্টু কর্মকার ২০০৩ সালে তাঁর চাচাতো ভাই উত্তম রায়ের কাছ থেকে সাবেক ১৮৯৭ দাগের ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি বায়না দলিলের মাধ্যমে কেনেন। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দলিল লেখক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আশিকুর রহমানের মাধ্যমে জমি কেনার দলিল সম্পাদন করা হয়। ওই দলিলে উত্তম রায় স্বাক্ষর করেন। মন্টুর দাবি, জমির মূল্য হিসেবে তিনি ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে দলিলটি সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আগেই উত্তম রায় চলে যাওয়ায় সেটি নিবন্ধিত হয়নি।
পরে ২০১৭ সালে একই জমি সৌদি আরবপ্রবাসী রফিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন উত্তম রায়। বিষয়টি জানতে পেরে মন্টু কর্মকার গত এক বছরে দুই দফায় আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকেই জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মন্টুর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট দিনের বেলায় তাঁদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁরা ঘরে ফিরতে সক্ষম হলেও যাতায়াতের পথের বেড়া সরানো হয়নি। বাড়ির দরজার সামনে প্রায় ২০ ফুট এবং উঠান থেকে বাইরে বের হওয়ার পথে প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্য সুবর্ণা কর্মকার বলেন, বেড়া দেওয়ার কারণে দিনের বেলায় শৌচাগার ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে তাঁদের রাতে পাশের পুকুরপাড়ে যেতে হচ্ছে। খাবার পানির জন্যও প্রতিদিন কলস নিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মন্টু কর্মকারের অভিযোগ, জমির দলিলে উত্তম রায় স্বাক্ষর করলেও সেটি নিবন্ধিত হয়নি। ওই অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতেই তিনি আদালতে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, মামলা করার পর রফিক মিয়ার লোকজন বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে তাঁদের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি মামলা ও বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান মন্টু।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিক মিয়ার স্ত্রী জানাহারা বেগম। তাঁর দাবি, তাঁরা নিজেদের জায়গাতেই বেড়া দিয়েছেন। মন্টু কর্মকারের জায়গায় বেড়া দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। হামলা, মামলা কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
জমিটির আগের মালিক উত্তম রায়ও মন্টুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মন্টু জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি পরে জমিটি রফিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। মন্টুর করা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও দাবি করেন উত্তম রায়।
স্থানীয় বাসিন্দা তাউস মিয়া বলেন, জমিটি প্রথমে মন্টু কর্মকার কিনেছিলেন বলে তিনি জানেন। পরে উত্তম রায় একই জমি রফিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেছেন। আরেক বাসিন্দা সুজন পাঠান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় বিরোধের সমাধান হয়নি।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া বলেন, উত্তম রায়ের কাছ থেকে মন্টু কর্মকার জায়গাটি কিনেছেন বলে তিনি শুনেছেন। মন্টুর কাছে দলিল বা বায়নাপত্রও রয়েছে। পরে একই জায়গা রফিক মিয়া কিনেছেন বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক ও হরিপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, উত্তম রায়ের কাছ থেকে মন্টু কর্মকার জায়গাটি কিনলেও সেই দলিল নিবন্ধিত হয়নি। মন্টুর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বাড়ির বাঁশ ও টিনের বেড়ার কিছু অংশ সরিয়ে দিয়েছে। বিরোধ মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে থানায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো কেউ সেখানে আসেনি।
জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও এর প্রভাব পড়েছে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। যাতায়াতের পথ, শৌচাগার ও খাবার পানির ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au