যে কারণে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অংশ হচ্ছে জাপান-তিউনিসিয়া ম্যাচ
মেলবোর্ন, ২০ জুন- প্রায় এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রায় আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যাত্রা শুরু করা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ…
মেলবোর্ন, ২০ জুন- চীন তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে কৌশলগত ও পরিবেশগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে অরুণাচল প্রদেশে নিজেদের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার করছে ভারত।
চীনের ‘মেডগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই মেগা প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় অনেক বড়। প্রকল্পটি বর্তমানে নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি চীনের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর ওপর ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি)’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেটিই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনএইচপিসি প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি।
তবে দুই প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। চীনের প্রকল্প ইতোমধ্যে নির্মাণকাজে প্রবেশ করেছে, আর ভারতের প্রকল্প এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অবকাঠামোগত অগ্রগতির দিক থেকে বেইজিং অনেকটাই এগিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নদী কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত নদীটি ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীবনযাত্রা এই নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হতে পারে। এতে ভাটির অঞ্চলে পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আকস্মিক পানি ছাড়লে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আগাম তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই বিশাল বাঁধ প্রকল্প শুধু জ্বালানি উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, পানি নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে দুই এশীয় পরাশক্তির এই প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au