কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা
কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- নতুন অর্থবছরের শুরুতে আগামী ১ জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর হতে যাচ্ছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন। মজুরি বৃদ্ধি, পিতা-মাতার বেতনসহ ছুটি সম্প্রসারণ, কর সুবিধা, প্রতারণামূলক বার্তা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রণোদনা এবং ভোক্তা সুরক্ষাসহ নানা খাতে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মী, পরিবার ও সাধারণ ভোক্তাদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটির সরকার।
সরকারি ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে শ্রমবাজারে। গত ২ জুন ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের বার্ষিক মজুরি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত অনুসারে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ ডলার ৪৪ সেন্ট। এর ফলে পূর্ণকালীন একজন কর্মীর সাপ্তাহিক আয় কর-পূর্ব ১ হাজার ৪ ডলার ৯০ সেন্টে উন্নীত হবে।
শুধু জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নয়, পুরস্কারভিত্তিক মজুরি কাঠামোর আওতায় থাকা লাখো কর্মীর বেতনও বাড়বে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসা বাড়তি শ্রম ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পরিবারকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পিতা-মাতার বেতনসহ ছুটির মেয়াদ ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩০ দিন করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী অভিভাবকরা সর্বোচ্চ ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সঙ্গীর জন্য সংরক্ষিত ছুটির সময়ও বাড়ানো হয়েছে। ১ জুলাই বা তার পর জন্ম নেওয়া কিংবা দত্তক নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা কার্যকর হবে।
সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ নতুন বাবা-মাকে সন্তান জন্মের পর দীর্ঘ সময় পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেবে এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। মোবাইল ফোনে প্রতারণামূলক খুদে বার্তা বা এসএমএস নিয়ন্ত্রণে চালু হচ্ছে প্রেরক পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা। এর আওতায় নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত নাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছে বার্তা পাঠাতে পারবে। আর নিবন্ধন ছাড়া পাঠানো বার্তা ‘অযাচাইকৃত’ হিসেবে প্রদর্শিত হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি সংস্থা, ব্যাংক এবং ডাকসেবার নাম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ব্যবসা খাতেও একাধিক পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। কোম্পানি নিবন্ধন, নবায়ন এবং বার্ষিক পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি বাড়ানো হচ্ছে। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু এবং পরিচালনার খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তাৎক্ষণিক সম্পদ ব্যয় করছাড় সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার মধ্যে যোগ্য সম্পদের খরচ সরাসরি করছাড় হিসেবে দাবি করা যাবে। এতে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর ব্যবস্থাতেও ধাপে ধাপে সংস্কার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফেডারেল সরকারের ঘোষিত আয়কর সংস্কার কর্মসূচির আওতায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের জন্য ভবিষ্যতে করহার কমানো হবে। এর ফলে লাখো কর্মজীবী মানুষ অতিরিক্ত কর সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কর্মসংক্রান্ত কিছু ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহজ করছাড় সুবিধা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার অংশ হিসেবে নতুন নিয়মের আওতায় রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং খাবার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামুদ্রিক খাদ্যের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। খাদ্যটি অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত, আমদানিকৃত নাকি মিশ্র উৎসের, সে তথ্য গ্রাহকদের জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতেও ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলো অতিরিক্ত সহায়তা পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরে কার্যকর হওয়া এসব পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুফল পাবেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী, নতুন বাবা-মা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তারা। মজুরি বৃদ্ধি কর্মীদের আয় বাড়াবে, বেতনসহ ছুটির সম্প্রসারণ পরিবারকে বাড়তি সহায়তা দেবে এবং প্রতারণামূলক বার্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
যদিও ব্যবসা পরিচালনার কিছু ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, তবুও সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং ভোক্তা অধিকার শক্তিশালী করার মাধ্যমে নতুন অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au