ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, এই ভূমিকম্পে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়ে পুরো এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও জীবিতদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১৭২ জন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন।
এদিকে রাজধানী কারাকাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে, ফলে বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির উত্তর উপকূলে আরও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, এর কেন্দ্রস্থল ছিল মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। যদিও এ ভূমিকম্পে নতুন করে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশ সীমিত করা হবে। একই সঙ্গে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারেন।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় এবং হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মী ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।