মেলবোর্ন, ২৭ জুন- ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার (২৭ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘প্রধান গো ব্যাক’ স্লোগানে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কৃষক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদেই এই আন্দোলন। তার অভিযোগ, একের পর এক বিতর্কের পরও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কোনো নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করেননি কিংবা পদত্যাগ করেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংকটকে ঘিরে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এসব ঘটনার দায় শুধু শিক্ষামন্ত্রীর নয়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও রাজনৈতিক দায় নিতে হবে। তার ভাষায়, একজন মন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় না আনলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
সিজেপি জানায়, তারা গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। আন্দোলনের নতুন ধাপে রবিবার থেকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করবেন সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুক। তার অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সব দলেরই এই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া উচিত। তিনি আত্মহত্যা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে বিক্ষোভকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরও হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়েরের দাবিও জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, এক স্বেচ্ছাসেবক গুরুতর আহত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা না দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তার মতে, এই আন্দোলন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।