হরমুজে জাহাজে হামলার জেরে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ‘এমটি কিকু’ নামের একটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ হামলা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির লঙ্ঘন। এর জবাবে শনিবার (২৭ জুন) রাতে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারে বিমান হামলা চালানো হয়।
এর আগে ২৫ জুন সিঙ্গাপুরের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পরও ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় সামরিক অভিযান।
মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় সামরিক চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ ধরনের হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শান্তি প্রচেষ্টা ও সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
পাল্টাপাল্টি হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। দুই দেশের সরকার নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তেহরান যদি যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ করে সংকট সমাধানে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ইরানি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করলেও ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।