কোণঠাসা বিজেপি কি ফের কট্টর হিন্দুত্বের পথে?
টানা আড়াই দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নানা কারণে এখন কিছুটা চাপে। এই পরিস্থিতিতে দলটি আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির…
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নানা বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কোনো ন্যায়বিচারের ফল নয়। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসাংবিধানিক ও অবৈধ বিচার প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অতীতেও এমন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কোনো ন্যায়বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু অতীতের মতো এবারও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না। ১৯৭৫ সালে তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার ঘটনা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনে একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি টিকে থেকেছেন।
তার ভাষায়, ‘১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে থেকেছি। জনগণের ভোটে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দেশের উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।’
সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; বরং ৭৭ বছরের ইতিহাসে বহুবার দমন-পীড়ন ও সংকট মোকাবিলা করেও জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই দলটি আবারও রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই এবং তার দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের পাশে থাকার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার, প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েন এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডে নির্দেশ, উসকানি ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘের এক হিসাব অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন।
তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা এই রায় প্রত্যাখ্যান করে একে পক্ষপাতদুষ্ট, সাজানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ভারত সরকার এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণের প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au