মেলবোর্ন,১ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ঐতিহাসিক এই রায়ে আদালত ৬-৩ ভোটে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকবে, এমনকি তাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে দেশটিতে অবস্থান করলেও।
রায়টি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হওয়ার অধিকার রাখেন। এই অধিকার কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সীমিত করা যায় না।
রায়ে বিচারপতি রবার্টস উল্লেখ করেন, চতুর্দশ সংশোধনী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর একটি মৌলিক ভিত্তি। গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রায় ১৫০ বছর আগে এই সাংবিধানিক বিধান কার্যকর করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতিই বর্তমান রায়ের মাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। তার প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যেসব ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বা সাময়িক ভিসায় অবস্থান করেন, তাদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত নয়।
তবে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, সংবিধানে নিশ্চিত করা নাগরিকত্বের অধিকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালত জানিয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর অন্যতম মৌলিক অধিকার এবং এটি বহাল থাকবে।
রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, “নাগরিকত্ব তখন যেমন ছিল, এখনও তেমনই একটি মৌলিক অধিকার। এটি মানুষের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে সমানভাবে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দেয়। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই সুযোগ নিশ্চিত করেছিলেন এবং আজ আমরা সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারই রক্ষা করছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। কারণ অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সীমিত করার অন্যতম প্রধান উদ্যোগটি আদালতের সিদ্ধান্তে কার্যকর হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নিজের অবস্থান আরও কঠোর করতে ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে নতুন আইনগত বা প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে সংবিধান ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি