মেলবোর্ন,১ জুলাই- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অস্বাভাবিক ধীরগতির কারণে চলতি বছরের জুন মাসে গত ১২৬ বছরের মধ্যে অন্যতম কম বৃষ্টিপাতের রেকর্ড গড়েছে ভারত। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ১৯০১ সালের পর এবারই জুন মাসে পঞ্চম সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টির কারণে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানিসংকট, খরা এবং কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমডি জানায়, ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা ভারতে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার, যেখানে এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ১৬৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার। ফলে গড়ে ৪০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘাটতি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে আইএমডির তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, গত ১২৬ বছরে কেবল ২০০৯, ১৯০৫, ২০১৪ এবং ১৯২৬ সালে এর চেয়েও কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। ফলে এবারের জুন মাসকে ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে অন্যতম শুষ্ক মাস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবে অনেক রাজ্যে মৌসুমি ফসলের বীজ বপনের কাজ ধীর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জুন মাসজুড়ে উত্তর ও মধ্য ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্য ভারত, যেখানে স্বাভাবিক ১৭০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টির বিপরীতে হয়েছে মাত্র ৮৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার। অর্থাৎ এই অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম ভারতে ৩১ শতাংশ এবং দক্ষিণ উপদ্বীপে ২৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ৮২ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ছত্তিশগড়ে ৬৫ শতাংশ, ঝাড়খন্ডে ৫৯ শতাংশ, উত্তর প্রদেশে ৫০ শতাংশ এবং রাজধানী দিল্লিতে ৪৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিহার, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে ৪৭ শতাংশ করে এবং কেরালায় ৩৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে মাসের শেষ দিকে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আইএমডি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আবারও সক্রিয় হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এটি মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের আরও কয়েকটি অঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের আশা, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাবে মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টিপাত জুন মাসের বড় ধরনের বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে সহায়ক হতে পারে।