মেলবোর্ন,২ জুলাই- দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও দক্ষ করতে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র ডিজিটালভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ট্রেড ডকুমেন্টের ইলেকট্রনিক আদান-প্রদান ও যাচাইয়ের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডকুমেন্টারি কালেকশন ও এলসি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এখন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা, পাঠানো এবং যাচাই করা সম্ভব হবে।
বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সময়োপযোগী, নিরাপদ ও আরও কার্যকর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা কাগজের পরিবর্তে ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন এই ব্যবস্থায় আমদানি ও রপ্তানি উভয় ধরনের লেনদেন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন (ইউআরসি), ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি) এবং এসব নীতিমালার ইলেকট্রনিক সংস্করণের আওতায়। ফলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই ডিজিটাল বাণিজ্য নথি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও আইনগত মানদণ্ড পূরণ করা হলে এসব ডিজিটাল নথি প্রচলিত কাগজভিত্তিক দলিলের সমান আইনি বৈধতা পাবে। এতে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, তথ্যের নিরাপত্তা, আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং নিরাপদ ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাইলট কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাণিজ্য করিডোর, লেনদেনের ধরন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় ইনভয়েস, পরিবহন দলিল, ড্রাফটসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রেড ডকুমেন্ট সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে।
তবে যেসব দেশে এখনো ডিজিটাল বাণিজ্য নথির আইনি স্বীকৃতি নেই, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজভিত্তিক দলিল ব্যবহার অব্যাহত রাখা যাবে। পাশাপাশি ডিজিটাল নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনক্রিপশন, পরিচয় যাচাই (অথেন্টিকেশন) এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই পাইলট কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। কার্যক্রমের ফলাফল ও নিয়ন্ত্রক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেও দেশের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সব বিধিমালা আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেড ডকুমেন্ট ডিজিটাল হওয়ার ফলে এলসি নিষ্পত্তি, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেনে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে কাগজের ব্যবহার হ্রাস, জালিয়াতির ঝুঁকি কমানো এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।