তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন,২ জুলাই- ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে। দীর্ঘ সময় পর এই অলৌকিক উদ্ধার দেশজুড়ে আশার সঞ্চার করলেও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে মানবিক সংকট দ্রুত তীব্র হচ্ছে এবং জরুরি আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্লেইবার মোরান নামের তিন বছরের শিশুটিকে লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করে জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স-এর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে দেশের মানুষের জন্য “আশার আলো” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পরও জীবিত একজন শিশুকে উদ্ধার করা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও জীবিত মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো নিরলসভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুর্গত মানুষের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। সেই সময়সীমা অতিক্রম করে ছয় দিন পর একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত বিরল এবং ব্যতিক্রমী ঘটনা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। এছাড়া এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লা গুইরা অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে এবং হাম, ডিপথেরিয়াসহ টিকাদানযোগ্য বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ও ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসস্তূপে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ৪৭ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। তবে হাজারো পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষায় রয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসায় উদ্বেগও বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au