শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা এবং একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর এলাকায় রিয়াজ ফকির মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেল ৪টার পর শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় প্রবেশ করে হামলা চালায়।
পুলিশের দাবি, হামলাকারীরা থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমকে মারধর করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি ও বাঁশ নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ ঘটনায় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসানসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম (৪৭)সহ কয়েকজন আহত হন। শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আতঙ্কে আহত আরও কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। থানার হাজতে বসে তিনি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে থানায় হামলা চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে।
তিনি বলেন, “থানায় ঢুকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে, আমরা কার কাছে যাব? সাধারণ মানুষ দেখেছে, সাংবাদিকরাও দেখেছেন। যদি একটি অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি এই পুলিশি পোশাক খুলে ফেলব। এভাবে যদি প্রতিটি কাজে বাধা আসে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
ওসি আরও বলেন, থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে রিয়াজ ফকিরের বাবা ছিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পুলিশ মারধর করেছে। তাদের দাবি, নির্যাতনের কারণেই তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর থেকে আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au