অন্তঃসত্ত্বা হলেন সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এক কিশোরীর (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার…
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ডুবে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে সড়ক যোগাযোগ, কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্প।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, নিহত দুই শিশুর পরিবারের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমাতে উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক এলাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই বিপৎসীমার চেয়ে বেশি। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au