অন্তঃসত্ত্বা হলেন সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এক কিশোরীর (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার…
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের এক মহান নেতা ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
গত এক যুগ ধরে আমি লিখে যাচ্ছি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আরও জোর দিয়ে বলছি – এটা আমার একার দাবি না, এটা সময়ের দাবি।
১. ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরের বাস্তবতা
আমরা সবাই দেখেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকদিনের মধ্যেই সারাদেশে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তা, মিউজিয়াম, স্টেডিয়াম ছিল – সবগুলোর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
একটি রাজনৈতিক পালাবদলে ইতিহাস মুছে ফেলার এই প্রয়াস প্রমাণ করে – শুধু নাম লাগিয়ে রাখলেই ইতিহাস বাঁচে না।
২. বিশ্ব স্বীকৃতি: বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সম্পদ
বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের না। তিনি বিশ্বের। প্রমাণ?
১. ৭ মার্চের ভাষণ – ইউনেস্কো স্বীকৃতি
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ১৮ মিনিটের ভাষণ।
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এটিকে “World’s Documentary Heritage” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বিশ্বের ৪২৭টি ঐতিহাসিক দলিলের মধ্যে এটি একমাত্র বাংলা ভাষার দলিল।
২. বিবিসির জরিপ – সর্বকালের সেরা বাঙালি
২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি” জরিপ করে।
সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১ নম্বর স্থান পান।
তার পরেই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সত্যজিৎ রায়।
বিশ্বের ১০ লাখের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছিল।
৩. বিশ্ব নেতাদের স্বীকৃতি
ফিদেল কাস্ত্রো-আমি হিমালয় দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি”।
ইন্দিরা গান্ধী: “দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বিরল ব্যক্তিত্ব”।
ইয়াসির আরাফাত: “তৃতীয় বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর”।
যার ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য, যিনি বিবিসির জরিপে ১ নম্বর বাঙালি – তার নামে বিশ্ব পুরস্কার থাকবে না?
৩. প্রস্তাব: “আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু মেডেল”
নাম: আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু মেডেল – International Bangabandhu Medal
উদ্দেশ্য: বঙ্গবন্ধুর আদর্শ – মানবতা, সংস্কৃতি, শান্তি ও মুক্তি বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া
পুরস্কারের কাঠামো:
১. শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি – শিক্ষা, সাহিত্য, চারুকলা, ইতিহাস
২. মানবতা ও মানবাধিকার – শান্তি, গণতন্ত্র, দারিদ্র্য বিমোচন
৩. খেলাধুলা, যোগ ও স্বাস্থ্য – ক্রীড়া, যোগ, জনস্বাস্থ্য
৪. অন্যান্য বিষয় – পরিবেশ, নারী, বিজ্ঞান, তরুণ নেতৃত্ব
বৈশিষ্ট্য:
সংখ্যা*: সারা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১৩-১৪ জন ।
মূল্যমান: প্রত্যেককে ২-৩ কোটি টাকা + স্বর্ণপদক + সনদ ।
প্রদান: প্রতি বছর ১৭ মার্চ, টুঙ্গিপাড়ায়।
৪. অর্থায়ন: আওয়ামী লীগের ভূমিকা
এখন টাকা আসবে কোথা থেকে?
আমার প্রস্তাব: আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে বড় আকারে ফান্ড কালেকশন করুক।
কীভাবে?
১. “বঙ্গবন্ধু মেডেল তহবিল”: দেশ-বিদেশের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অনুদান।
২. প্রবাসী বাংলাদেশি: বিশ্বের ১ কোটি প্রবাসীর কাছে আবেদন।
৩. ট্রাস্ট গঠন: জাতির পিতার পরিবারের তত্ত্বাবধানে একটি স্বচ্ছ ট্রাস্ট।
ইতিহাস রক্ষার দায়িত্ব সবার আগে দলের। সরকারের উপর সব ছেড়ে দিলে হবে না।
৫. কেন এটা এখন সময়ের দাবি
১. নাম মুছে গেলেও আদর্শ মোছা যাবে না একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার থাকলে আগামী হাজার বছরেও কেউ বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে পারবে না।
২. ৭ মার্চের মতো বিশ্বায়ন: ইউনেস্কো যেমন ভাষণকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে গেছে, এই মেডেলও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাবে।
৩. বিবিসির জরিপের মর্যাদা রক্ষা: বিশ্ব যাকে ১ নম্বর বাঙালি বলেছে, তাকে আমরাই বিশ্বমঞ্চে সম্মান দেবো না?
৪. শত বছরের জন্য: তাঁর নামে যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না করে এটা করতে পারলে শত শত বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম বিশ্বে নানাভাবে আলোচিত হবে।
শেষ কথা: আমার একার না, জাতির দাবি,সময়ের দাবি!
গত এক যুগ ধরে আমি লিখছি। আজ ১৭ মার্চে আবারও বলছি।
৫ আগস্ট আমাদের শিখিয়েছে – নাম মুছে ফেলা যায়, কিন্তু ৭ মার্চের ভাষণ আর বিবিসির স্বীকৃতি মুছে ফেলা যায় না।
তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে দাবি তুলি –
“যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান না, একটি আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু মেডেল চাই”।
আওয়ামী লীগ ফান্ড কালেকশন শুরু করুক। সরকার আইন পাস করুক।
তাহলে ৭ মার্চের ভাষণের মতো, বিবিসির জরিপের মতো বঙ্গবন্ধুর নাম শত বছর ধরে বিশ্বে বেঁচে থাকবে।
বঙ্গবন্ধু আছেন। বঙ্গবন্ধু থাকবেন।
লেখক-
সরদার সেলিম রেজা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কবি ও পরিবেশ কর্মী
সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au