১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- টানা ভারী বর্ষণ, বৈরী আবহাওয়া এবং পাহাড়ধসের অব্যাহত ঝুঁকির কারণে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে…
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দ্বিতীয় রাতেও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পরে কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকেও নতুন করে হামলার খবর প্রকাশ করা হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সেন্টকম বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। আগের রাতের অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পরে কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকেও নতুন করে হামলার খবর প্রকাশ করা হয়। তবে এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক বন্দরে বিস্ফোরণের পর স্থানীয় কর্মকর্তারা একটি নৌঘাঁটিতে ‘শত্রুর হামলার’ কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো নতুন হামলা চালায়নি।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ও ৯ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চাবাহার বন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, যাচাই করা ভিডিওতে ওই স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও আবু মুসা দ্বীপেও বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর। আন্তর্জাতিক ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকোর মেরিন পরিচালক ফিল বেলচার বিবিসিকে বলেন, দক্ষিণমুখী রুট দিয়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন তা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন প্রায় ৭০টি জাহাজ চলাচল করছিল।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রে উল্লেখ করা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন উপলক্ষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার পর তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওই সমঝোতা এখন আর কার্যকর নয়। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাব ইরান ‘কাজের মাধ্যমে’ দেবে।
সূত্র: বিবিসি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au