১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- টানা ভারী বর্ষণ, বৈরী আবহাওয়া এবং পাহাড়ধসের অব্যাহত ঝুঁকির কারণে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি মাগুরার শালিখা উপজেলার ৩২ শিক্ষার্থীর একটি উপবৃত্তির তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। সেই তালিকা প্রকাশ করে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, উপবৃত্তির তালিকায় শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম রাখা হয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও দাবি করা হয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মাগুরা-২ আসনের ৩৫ জন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সবাই হিন্দু, সেখানে কোনো মুসলিম শিক্ষার্থী নেই।
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবি বিভ্রান্তিকর। ভাইরাল হওয়া তালিকাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের একটি বিশেষ উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় প্রস্তুত করা তালিকা।
মাগুরার শালিখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী শুক্রবার (১০ জুলাই) বলেন, প্রতি বছরই একই ধরনের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভাইরাল হওয়া তথ্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, এই উপবৃত্তি মূলত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য। মাগুরা জেলার চারটি উপজেলাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে এবং তাদের জন্যই এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এদিকে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ও বিষয়টি যাচাই করে জানিয়েছে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য বিভ্রান্তিকর। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। এর আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসহায় পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা উপবৃত্তি, বসতঘর নির্মাণ, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করে।
এদিকে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হিন্দু হলেই কীভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী একটি জাতিগত পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় নয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ হিন্দু, মুসলিম বা অন্য যে কোনো ধর্মাবলম্বী হতে পারেন। তিনি বলেন, শালিখা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এখানে মুসলিম ধর্মাবলম্বী কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেই। থাকলে তারাও একই কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি পেতেন। এটি একটি বিশেষ বরাদ্দ, কোনো ধর্মভিত্তিক বৃত্তি নয়।
ইউএনও আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তালিকাটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। সেখানে ৩২ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও প্রকৃত তালিকায় মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। একই পরিবারের একাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীও তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং উপজেলার কোনো যোগ্য উপকারভোগীকে বাদ দেওয়া হয়নি।
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, মাগুরা জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৮ জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রশাসনের ভাষ্য, এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই সরকার প্রতিবছর বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au