মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই- ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উদ্যাপন। ম্যাচ শেষে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো হাতে তুলে নেন ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার, যা দীর্ঘদিনের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নাটকীয় জয়ের পর খেলোয়াড়রা গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। এ সময় ব্যানারটি প্রদর্শন করেন মার্তিনেজ ও লো সেলসো। ব্যানারে থাকা বার্তাটি ছিল ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর দেশটির দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের পর থেকে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এখনো এর মালিকানা দাবি করে আসছে। এই ঐতিহাসিক বিরোধের কারণে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচগুলো বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব ও আবেগের জন্ম দেয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি হয় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে, যখন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ করে দলকে জয় এনে দেন। সেই ম্যাচের পর ম্যারাডোনা ফকল্যান্ড যুদ্ধের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথাও বলেছিলেন, যা দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
এবারের সেমিফাইনালের আগে দুই দেশের খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক বিরোধের প্রতিফলন নয়। তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শন সেই বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ফকল্যান্ড যুদ্ধের সাবেক যোদ্ধাদের সংগঠন ‘২ এপ্রিল যুদ্ধ-প্রবীণ ফেডারেশন’ ম্যাচটিকে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই ম্যাচকে ফকল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সচেতনতা বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে যে, দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার জাতীয় দাবি এখনো বহাল রয়েছে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ম্যাচ-পরবর্তী এই উদ্যাপন নিছক আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত বহন করেছে, যা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।