ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩ হাজার ২৬৬,ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই- দেশজুড়ে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জুলাই মাসেই সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৯১ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন আরও দুইজন। ফলে চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ জনে।
বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুইজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজন পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশু এবং অন্যজন ৪৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন পুরুষ। এ নিয়ে চলতি জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। এর আগে জুন মাসে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল অধিদপ্তর। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন এবং জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনেই ৩ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছর এবং চলতি মাসে এটিই সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়েছে। জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন এবং মে মাসে একজন মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না থাকলেও জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ের প্রথমার্ধেই মারা গেছেন ১২ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল বলেন, চলতি বছর থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের অপর্যাপ্ত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি নাগরিকদেরও বাড়ি ও আশপাশে কোথাও যাতে পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।