ব্রাজিলের অধিকাংশ পণ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র।
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই- ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে কফি ও গরুর মাংসের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যকে নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ব্রাজিলের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কথিত অন্যায্য আচরণ, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা এবং বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক বছরব্যাপী তদন্তের পর ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় বিদেশি দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমিয়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। সে কারণেই কফি ও গরুর মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যকে অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্সির সামাজিক যোগাযোগ সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো আইনি বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য নীতিমালার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেছে ব্রাসিলিয়া।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই শুল্ক আরোপকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি “দুঃখজনক মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ব্রাজিল মার্কিন প্রযুক্তি ও পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নানা ধরনের বাণিজ্যিক বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া দেশটি অবৈধ বন উজাড় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, মার্কিন ইথানলের বাজারে প্রবেশ সীমিত করেছে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায়ও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। এসব কারণেই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাণিজ্যিক বিরোধের ফল নয়; এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মিত্র ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর প্রতি ব্রাজিল সরকারের আচরণের সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে পৃথক শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পরিস্থিতির জন্য লুলা সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করে বলেছেন, এসব নীতি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তেমনি ব্রাজিলের জনগণের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে উভয় পক্ষই জানিয়েছে।