মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই- ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) থেকে একের পর এক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীর পদত্যাগের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির মহাকাশ বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস)। গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগের আবেদন আর নিয়মিতভাবে গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি), বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (ভিএসএসসি), সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার, লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার, স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার, ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং মাস্টার কন্ট্রোল ফ্যাসিলিটিসহ ইসরোর বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রে জানানো হয়েছে, গগনযান ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশনের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন বিশেষ বিবেচনা ছাড়া অনুমোদন করা যাবে না।
মহাকাশ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে গগনযানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এখন থেকে এ ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকের সুস্পষ্ট সুপারিশসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মহাকাশ বিভাগে পাঠাতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২০ সালে করা প্রশাসনিক পরিবর্তন কার্যত বাতিল করা হয়েছে। ওই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিচালকরা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন অনুমোদনের ক্ষমতা পেয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১০০ জনের বেশি বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী ইসরো ছেড়েছেন। এর মধ্যে বেঙ্গালুরুর ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার এবং তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার থেকে সবচেয়ে বেশি পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ভিক্টর জোসেফ টি, যিনি জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এমকে-থ্রি প্রকল্পের পরিচালক এবং গগনযান অভিযানে ব্যবহৃত এলভিএম-৩ উৎক্ষেপণযানের প্রকল্পপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরো ছেড়ে যাওয়া অনেক বিজ্ঞানী বর্তমানে ভারতের দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে যোগ দিচ্ছেন। ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর এবং ২০২৩ সালের নতুন মহাকাশ নীতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে ৪০০-এর বেশি মহাকাশ স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। পিক্সেল, ধ্রুবা স্পেস, স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস এবং বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস এখন এই খাতের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক উৎক্ষেপণ ব্যর্থতার ধাক্কাও সামলাতে হচ্ছে ইসরোকে। সংস্থার নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযান পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এক বছরের মধ্যে টানা দুটি মিশনে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও ইসরো গগনযান, চন্দ্রযান-৪, ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন (বিএএস) এবং মঙ্গলযান-২-এর মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। ভারতের লক্ষ্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানো বিশ্বের চতুর্থ দেশ হওয়া এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করা।
সুত্রঃ এনডিটিভি