অবসরের দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬)…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। আর এই বিপুল বিদ্যুৎনির্ভর স্থাপনাগুলোকে শক্তি জোগাতে কোন উৎস ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাসভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিলেও বিরোধী জোট পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৬০টি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। তবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার কারণে আগামী বছরগুলোতে এ সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, ফলে দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের বড় আকারের এআই ডেটা সেন্টারগুলোকে অবশ্যই নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় ডেটা সেন্টারগুলোকে নিজেদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি তাদের নতুন বিদ্যুৎ সরবরাহ উৎস নিশ্চিত করা, পানির ব্যবহার কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও বাধ্যতামূলক নিয়ম মানতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার মূলত সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, পাম্পড হাইড্রো এবং গ্যাসভিত্তিক ব্যাকআপ প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে বা সরবরাহে সমস্যা হলে গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে এসব ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।
তবে বিরোধী কোয়ালিশন জোট বলছে, শুধু সৌর ও বায়ুর ওপর নির্ভর করে এআই ডেটা সেন্টারের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তারা পারমাণবিক শক্তিকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ছায়া জ্বালানি ও নির্গমন হ্রাসমন্ত্রী ড্যান টেহান বলেন, ভবিষ্যতের ডেটা সেন্টারগুলো পরিচালনায় সব ধরনের শক্তির উৎস বিবেচনায় রাখা উচিত। তার মতে, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন গুগল ও অ্যামাজন নিজেদের এআই অবকাঠামোর জন্য শূন্য কার্বন নির্গমনকারী পারমাণবিক শক্তির দিকে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল পার্টির উপনেতা ড্যারেন চেস্টার বলেছেন, ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার কিছু ডেটা সেন্টার পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সম্ভব। তিনি বড় আকারের পারমাণবিক চুল্লির পাশাপাশি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর (SMR) প্রযুক্তির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে দেশটির বর্তমান সরকার পারমাণবিক শক্তির বিরোধিতা করছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেছেন, দেশের জ্বালানি রূপান্তরের জন্য পারমাণবিক শক্তি কোনো সমাধান নয়। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মোট বিদ্যুতের ৮২ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলও সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরি জাতীয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক নিয়মের কিছু অংশের বিরোধিতা করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন নীতির কারণে বিদ্যুতের খরচ সাধারণ মানুষের ওপর চাপতে পারে।
কুইন্সল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী ডেভিড জানেটস্কি বলেছেন, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতের পক্ষে তারা থাকলেও এমন কোনো পরিকল্পনাকে সমর্থন করবেন না যা রাজ্যের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
অস্ট্রেলিয়ার ডেটা সেন্টার শিল্পের প্রধান সংগঠন ডেটা সেন্টারস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, দেশটির চালু থাকা ডেটা সেন্টারগুলো ইতোমধ্যে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের মাধ্যমে পূরণ করছে। তবে জরুরি পরিস্থিতির জন্য এখনো ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ডিজেল জেনারেটরের দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের সেন্টার ফর সেফ এয়ার জানিয়েছে, ডিজেল থেকে নির্গত কিছু দূষণকারী উপাদান মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যাটান ইনস্টিটিউটের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টনি উড সরকারের নতুন নিয়মকে স্বাগত জানালেও পারমাণবিক শক্তির দাবিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন। তার মতে, দেশটির বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাসভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থাই এগিয়ে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের পারমাণবিক প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ড. এডওয়ার্ড অববার্ড বলেছেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টি আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দলটির সিনেটর সারা হ্যানসন-ইয়ং ডেটা সেন্টার অনুমোদনে সাময়িক স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হলে পরিবেশ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, বড় আকারের এআই ডেটা সেন্টারের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক নীতিমালা আগামী বছরের শুরুতে আইনে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এআই বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তি, গ্যাস নাকি পারমাণবিক শক্তি কোনটি প্রধান ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au