অবসরের দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬)…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটিতে থাকা সন্ত্রাসবাদ-সমর্থক ভিডিও ও সহিংস উগ্রপন্থী কনটেন্ট অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে টেলিগ্রাম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৪৬ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে।
বার্তা সংস্থার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কার্যালয় আদালতে এ সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম শুরু করে। সংস্থাটির অভিযোগ, টেলিগ্রামকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও প্ল্যাটফর্মে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভিডিও এবং গণগুলির (ম্যাস শুটিং) ভিডিও দীর্ঘ সময় ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছিল।
ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট এক বিবৃতিতে বলেন, মামলাটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত উগ্রপন্থী সহিংস ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নিয়ে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো শহরের বন্দুক হামলার ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট প্রচারণামূলক উপাদানও রয়েছে।
তিনি বলেন, টেলিগ্রামকে বিষয়টি জানানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এসব কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে সহজেই দেখা যাচ্ছিল। এ ধরনের কনটেন্ট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া জননিরাপত্তা ও উগ্রবাদ দমনের জন্য বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মে থাকা সন্ত্রাসবাদ-সমর্থক ১২টি পোস্ট সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন। এর মধ্যে তিনটি পোস্টে পরিচিত সন্ত্রাসী সংগঠন ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট ছিল।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, টেলিগ্রাম ১২টির মধ্যে ১০টি পোস্ট সরিয়ে নেয়নি। পাশাপাশি যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এসব কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছিল, সেগুলোকেও স্থগিত বা ব্লক করা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে টেলিগ্রামের এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি আদালতে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বে। তার দাবি, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে টেলিগ্রামের কার্যক্রম সুপ্রতিষ্ঠিত এবং শুধু ২০২৬ সালেই হাজার হাজার উগ্রপন্থী কমিউনিটি ও চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মেসেজিং অ্যাপগুলোর একটি টেলিগ্রাম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি।
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ২০১৪ সালে রাশিয়া ছাড়েন এবং ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্থানান্তর করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টেলিগ্রাম উভয় পক্ষের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষের তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে বুধবার রাশিয়া পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ এনেছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রাম ব্যবহার করছে। যদিও এ বিষয়ে টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার এই মামলা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি টেলিগ্রামের জন্য আইনি ও আর্থিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au