সন্তানকে সম্পত্তি দানের পরও বাবা-মায়ের অধিকার, সংসদে বিল পাস
সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্দোলনকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। একই সঙ্গে নির্বাচন চলাকালে প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার (২৭ জুলাই) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে জেএএসির অন্তত ২০ জন সমর্থক নিহত হন বলে বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন সংগঠনটির নেতা সারদার ওমর নাজির।
তিনি আরও দাবি করেন, পরদিন রাওয়ালাকোট, মিরপুর এবং অন্যান্য এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলাকালে আরও অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য, তাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে জেএএসির দাবি করা নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা (এসিএলইডি)-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পিয়ার প্যান্ডিয়া বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান সহিংসতা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বার জেলায় প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২ আগস্ট এবং ১০ আগস্ট আরও দুই দফায় ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম দফার নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)।
গত জুনে স্থানীয় সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে (জেএএসি) নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর অঞ্চলজুড়ে ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তথ্যপ্রবাহও সীমিত হয়ে পড়ে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কাশ্মীরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারত-সমর্থিত সশস্ত্র ব্যক্তিরাও যুক্ত ছিলেন। তবে ভারত অতীতের মতো এবারও এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয় এবং সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের কোনো বৈধতা নেই।
সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইসাবেল লাসি পাকিস্তান সরকারকে অবিলম্বে সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেএএসির অন্যতম প্রধান দাবি হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিল করা। সংগঠনটির অভিযোগ, এসব আসনের মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলো অঞ্চলের বাইরে থাকা ভোটারদের ব্যবহার করে স্থানীয় পার্লামেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, সরকার গঠনের জন্য পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজকে (পিএমএল-এন) সম্ভবত ওই বিতর্কিত ১২টি সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই এই বিতর্কের সমাধান সরকার কীভাবে করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে ভোট বর্জন না করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভোট কারচুপি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। এতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au