রাজশাহীর পবায় শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতের রোকন আটক
মেলবোর্ন,০১আগস্ট: রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছি ইউনিয়নের একটি…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহনে ব্যবহৃত সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সংস্থাটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা এবং সিএনজির দাম ৪৩ টাকা থেকে প্রায় ৬৫ টাকা করার প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিও বিতরণ মাশুল বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার ভর্তুকির বোঝাও ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হবে। পরে কমিশন গণশুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত গ্রহণ এবং আর্থিক বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী দেশে গ্যাসের দাম নির্ধারণ ও পরিবর্তনের একমাত্র ক্ষমতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের হাতে। ফলে পেট্রোবাংলা বা গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানির প্রস্তাব সরাসরি কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই। কমিশনের অনুমোদনের পরই নতুন মূল্য কার্যকর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি খাতের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা বিদ্যমান শিল্প গ্রাহকদের জন্য নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং একই বছরের নভেম্বরে সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৯ দশমিক ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গ্যাসের মূল্যের পাশাপাশি বিতরণ মাশুলও বাড়াতে চেয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বর্তমান ৩৭ পয়সার পরিবর্তে ১ টাকা ২১ পয়সা, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ২৪ পয়সা থেকে ৪১ পয়সা, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ৩০ পয়সা থেকে ৯০ পয়সা, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড ১৮ পয়সা থেকে ৬৩ পয়সা এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ২৪ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫ পয়সা করার আবেদন জানিয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিও দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান বিতরণ মাশুল দিয়ে পরিচালন ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান অপরিচালন আয় দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এ পরিস্থিতি টেকসই নয়। লোকসান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কমিশনের কাছে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। প্রস্তাব পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহে প্রতি ঘনমিটারের গড় ব্যয় ছিল ৩১ দশমিক ৬৫ টাকা। বিপরীতে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল মাত্র ২৩ দশমিক ৬৩ টাকা। ফলে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৮ দশমিক ২ টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য আরও বেড়ে প্রতি ঘনমিটার ৪৫ দশমিক ৭৯ টাকায় পৌঁছায়। একই সময়ে আগের বিক্রয়মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করায় প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৮২ টাকা।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার মোট আর্থিক ঘাটতি প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর বিপরীতে সরকার প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।
বর্তমানে পেট্রোবাংলা দেশীয় ও আমদানিকৃত উভয় উৎস থেকেই গ্যাস সংগ্রহ করছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ১ টাকায় এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও বাপেক্স থেকে তুলনামূলক কম দামে গ্যাস সংগ্রহ করা হলেও কাতার ও ওমান থেকে আমদানি করা এলএনজির দাম অনেক বেশি। ফলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একসময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে আমদানির মাধ্যমে। তবে পেট্রোবাংলার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে প্রতি বছর অন্তত চারটি অনুসন্ধান কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের গতি কমে গেছে এবং শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নতুন গ্যাস সংযোগে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা, ভর্তুকির চাপ এবং গ্যাসের মূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au