রাজশাহীর পবায় শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতের রোকন আটক
মেলবোর্ন,০১আগস্ট: রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছি ইউনিয়নের একটি…
মেলবোর্ন,০১আগস্ট: পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হামিম মণ্ডল নামে এক যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের যোগাযোগের অভিযোগ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের যোগাযোগ ছিল পাকিস্তানের কথিত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি ও তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের সঙ্গে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, এই চক্রটি মাদক ও অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এর পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদদ থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হয়নি।
কীভাবে নজরে আসেন হামিম
এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বাসিন্দা হামিম মণ্ডল কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি পোশাক প্রতিষ্ঠানে বারকোড সংযোজনের কাজ করতেন। তবে ভোটের আগে তিনি চাকরি ছেড়ে বর্ধমানে ফিরে গিয়ে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন।
কর্মসূত্রে হামিম থাকতেন হাওড়ার পিলখানা এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শাহজাদ চক্রের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। পরে নিয়মিত অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তে যা পাওয়া গেছে
এসটিএফের দাবি, হামিমের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কিছু সূত্র মিলেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হাওয়ালার মাধ্যমে তার কাছে অর্থও পাঠানো হয়েছিল।
এছাড়া তাকে পশ্চিমবঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও সেই দায়িত্বের প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানায়নি এসটিএফ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হামিমকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিকে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধিও পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে কিছু নথি ও অনলাইন বার্তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব নজরদারি কতটা কার্যকর হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।
‘হাইব্রিড মডিউল’ নিয়ে তদন্ত
ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজাদ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের টার্গেট করে। প্রথমে অনলাইনে যোগাযোগ গড়ে তুলে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। মাদক বিক্রির অর্থের একটি অংশ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে আরও কেউ জড়িত?
এসটিএফের আশঙ্কা, হামিম একাই নয়, পশ্চিমবঙ্গে আরও কেউ এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। ধর্মীয় উগ্রবাদী প্রচারণার মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহেরও চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
একাধিক রাজ্যে অভিযান
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও আসামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযানে অন্তত দুই ডজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসটিএফের কর্মকর্তারা বলছেন, হামিমের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গেও এই চক্রের সম্ভাব্য তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে রাজ্যে আর কেউ সক্রিয় আছে কি না, কিংবা কোনো নাশকতার পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র :আনন্দবাজার ডট কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au