অস্ট্রেলিয়া

গার্মা উৎসবে আলবানিজকে ‘দিকহারা’ বললেন জুলিয়ান লিজার, আদিবাসী নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা

  • 7:34 pm - July 31, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১২৬ বার
গার্মা উৎসব।

মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী নীতি নিয়ে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। দেশটির বিরোধী জোটের ছায়া আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী জুলিয়ান লিজার অভিযোগ করেছেন, ২০২৩ সালের ‘ভয়েস টু পার্লামেন্ট’ গণভোটে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সুস্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। উত্তর-পূর্ব আর্নেম ল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গার্মা উৎসবের উদ্বোধনী দিনে দেওয়া ভাষণে তিনি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন এবং শিক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধকে আদিবাসী উন্নয়নের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী নীতি বিষয়ক সম্মেলন গার্মা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জুলিয়ান লিজার বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আদিবাসী বিষয়ক সরকারি নীতিতে কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘ভয়েস টু পার্লামেন্ট’ গণভোটে পরাজয়ের পর সরকার কার্যত দিকহারা হয়ে পড়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও আর কার্যকর নেতৃত্ব দেখাতে পারেননি।

তিনি বলেন, “২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আদিবাসী বিষয়ক নীতি দিকহারা অবস্থায় রয়েছে। এই নীতিতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং উদ্দেশ্যবোধের অভাব রয়েছে।”

গার্মা উৎসবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের অনুপস্থিতিকেও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জুলিয়ান লিজার। তিনি বলেন, আদিবাসী নীতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মঞ্চ হিসেবে পরিচিত এই উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর না আসা সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তার ভাষায়, “ভয়েস গণভোটে পরাজয়ের পর থেকে তিনি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। এখন উঠে দাঁড়ানোর সময়।”

তবে গার্মায় অংশ না নেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “আমি সব জায়গায় থাকতে পারি না।” তিনি জানান, তার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং এবং আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী মালারিন্দিরি ম্যাককার্থি উৎসবে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এদিকে উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লসও প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ছুটি নেওয়া একজন প্রধানমন্ত্রীর অধিকার এবং গার্মা উৎসবে সরকারের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর নতুন ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করার পর আবারও ছায়া আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান জুলিয়ান লিজার। তবে আদিবাসী নীতির বিভিন্ন প্রশ্নে তার অবস্থান নিজ দলের অনেক নেতার সঙ্গে এক নয়। বিশেষ করে নর্দার্ন টেরিটরির সিনেটর জেসিন্টা নামপিজিনপা প্রাইসের সঙ্গে ‘ইন্ডিজেনাস ভয়েস টু পার্লামেন্ট’ নিয়ে তার মতপার্থক্য ছিল।

গার্মা উৎসবে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জুলিয়ান লিজার। তিনি জানান, তরুণ বয়সে আত্মহত্যার কারণে নিজের বাবাকে হারিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “আমি তরুণ বয়সে আমার বাবাকে আত্মহত্যার কারণে হারিয়েছি। আত্মহত্যাকে যদি শুধু একজন ব্যক্তির ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যায় না। অনেক সময় এটি হতাশার এক ধরনের ভাইরাসে পরিণত হয়।”

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার অনেক আদিবাসী সম্প্রদায়ে আত্মহত্যার ঘটনা এত ঘন ঘন ঘটছে যে সেটি যেন স্বাভাবিক একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। অথচ কোনো অবস্থাতেই এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যার হার কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে জুলিয়ান লিজার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন বদলে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপই হতে পারে আদিবাসী সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আর্নেম ল্যান্ডের স্বাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধুপুমা বার্কার কলেজের সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। গার্মা উৎসবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ২৪ জন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। একই সময়ে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নর্দার্ন টেরিটরির অন্যান্য সরকারি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক প্রবণতার বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।

গার্মা উৎসবে জুলিয়ান লিজারের এই বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসী নীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘ভয়েস টু পার্লামেন্ট’ গণভোট ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবে, সেই প্রশ্ন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এই শাখার আরও খবর

উৎসবের মঞ্চে ঐতিহ্য ও মানবিকতার মেলবন্ধন, ‘মহাশক্তি সম্মান’-এ স্বীকৃতি ২৫ দুর্গাপুজোর

দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক অবদান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২৫টি দুর্গাপুজো কমিটিকে ‘মহাশক্তি সম্মান’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘উই আর দ্য কমন…

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au