Jacinta Allan was ousted from office after nearly a year of consecutive monthly polling decline.
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে নাটকীয়ভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলটির নতুন নেতা ও প্রিমিয়ার বেন ক্যারল এখন আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় রাজ্য নির্বাচনে দলকে টানা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী করার চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিক্টোরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব পরিবর্তন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
এই সপ্তাহে উপ-নেতা বেন ক্যারল দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে জাসিন্টা অ্যালানকে সরিয়ে নতুন প্রিমিয়ারের দায়িত্ব নেন। নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরপরই লেবার পার্টির দুই প্রভাবশালী ফ্রন্টবেঞ্চ সদস্যের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. জারেহ গাজারিয়ান বলেন, নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব পরিবর্তন কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য সফল কৌশল হিসেবে অতীতে প্রমাণিত হয়নি।
তার ভাষায়, “নির্বাচনের আগে বা মাঝপথে নেতৃত্ব বদলের কৌশল সাধারণত সফলতার সূত্র নয়। লেবারের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। তারা টানা তিনটি নির্বাচন জিতেছে এবং প্রায় ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে অনেক সময় রাজনৈতিক গতি কমে যায়।”
তিনি ভিক্টোরিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরেন। স্টিভ ব্র্যাকস ২০০৭ সালে পদত্যাগ করার পর জন ব্রামবি নেতৃত্ব নেন, কিন্তু ২০১০ সালের নির্বাচনে জয় ধরে রাখতে পারেননি। একইভাবে টেড বেইলিউ ২০১৩ সালে সরে দাঁড়ানোর পর ডেনিস ন্যাপথাইন নেতৃত্ব পেলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। এসব উদাহরণ দেখিয়ে ড. গাজারিয়ান বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর নির্বাচনী সাফল্যের নজির খুবই সীমিত।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ১৯৮৩ সালের ফেডারেল নির্বাচনের আগে বব হকের নেতৃত্ব গ্রহণের পর লেবারের জয়ের উদাহরণ টানলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়।
ড. গাজারিয়ান মনে করেন, বেন ক্যারলের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে বিরোধী লিবারেল পার্টির বর্তমান অবস্থানের ওপর। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভিক্টোরিয়ার বিরোধী দল অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, নেতৃত্ব সংকট এবং নীতিগত বিভক্তির কারণে দুর্বল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির নতুন নেতা জেস উইলসনের নেতৃত্বে তারা নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
এদিকে নতুন প্রিমিয়ারের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্য পার্লামেন্টে জেস উইলসন ও বিরোধী জোটের সদস্যরা বেন ক্যারলকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেন। তারা অভিযোগ করেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের আগে তিনি প্রকাশ্যে জাসিন্টা অ্যালানের প্রতি সমর্থনের কথা বললেও পরে অবস্থান বদলেছেন।
পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে বারবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয় বেন ক্যারলকে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এসেছে।
প্রথম ভাষণেই বেন ক্যারল স্পষ্ট করে বলেন, তিনি সাবেক দুই প্রিমিয়ার ড্যান অ্যান্ড্রুজ কিংবা জাসিন্টা অ্যালানের ধারাবাহিকতার প্রতীক নন; বরং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সরকার পরিচালনা করতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখন তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভিক্টোরিয়ার ভোটারদের আস্থা অর্জন করা এবং নিজেকে আগের নেতৃত্ব থেকে আলাদা একটি রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তারা মনে করছেন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও নির্মাণশিল্প নিয়ে সম্ভাব্য রয়্যাল কমিশন, আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান এবং নতুন নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে বেন ক্যারল নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করবেন। তবে নির্বাচনের আগে এত অল্প সময়ে ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠন করা তার জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সুত্রঃ নিউজ.কম