‘কেএমপি মুতিয়ারা সান্তোসা ১’ নামের ফেরিটির পেছন দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রপথে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো অন্তত ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেশটির নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা। শতাধিক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসার্নাস) জানায়, ফেরিটিতে মোট ২৭১ জন আরোহী ছিলেন। এটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া বন্দর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। যাত্রাপথে মাদুরা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফেরির ক্যাপ্টেন জরুরি বার্তা পাঠিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ও নৌযান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আগুন থেকে বাঁচতে অনেক যাত্রী লাইফ জ্যাকেট পরে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। অনেককে লাইফবোটে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। উত্তাল সাগরে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর একে একে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইনিউজ-এ প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, লাইফ জ্যাকেট পরা অসংখ্য যাত্রী সমুদ্রে ভাসমান লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্য কয়েকটি ভিডিওতে ফেরির ওপরের অংশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল শিখা বের হতে দেখা যায়। প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে ফেরি থেকে নিচে নামার কিংবা পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ৪১ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় হাজার হাজার দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে দেশটিতে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
সূত্র:বিবিসি