গাছে বেঁধে স্কুলছাত্রী-যুবককে নির্যাতন: অভিযোগের তির বিএনপি নেতার দিকে।
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুল চলাকালে ওই স্কুলছাত্রীকে রাহুথড় বড় ব্রিজ এলাকা থেকে ধরে বিদ্যালয়ে আনা হয়। একই সময়ে এক যুবককে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে দুজনকে বেঁধে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। পরে তাকে প্রথমে রাহুথড় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার। তিনি দাবি করেন, আপত্তিকর অবস্থায় দুজনকে এলাকার কয়েকজন যুবক তার বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে তিনি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেন। গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ সরকার জানান, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নির্যাতনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।