ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই বহিরাগত অতিথিকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই বহিরাগত অতিথিকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এবং ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ নিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই যুবক আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। ভিডিওতে তাদের ক্ষমা চাইতে এবং ভিডিওটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানাতেও দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই ওই দুই অতিথি ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে ওঠেন। পরে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান কয়েকজন শিক্ষার্থী। তিনি আরও দাবি করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করলেও বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
সমালোচনার মুখে ইব্রাহীম খলিল ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি তাঁর কক্ষে ঘটলেও তিনি সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় আসা পরিচিত দুই ব্যক্তিকে মানবিক কারণে কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার সময় তিনি বাইরে ছিলেন এবং পরে কেউ তাঁকে বিষয়টি জানাননি বলেও দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কথোপকথনের রেকর্ড সরবরাহ করেন। সেখানে এক অতিথিকে বলতে শোনা যায়, তারা ভুল করতে যাচ্ছিলেন, তবে কক্ষে অন্যরা ঢুকে পড়ায় তা আর ঘটেনি। অডিওটির সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস নির্বাচিত হন ইব্রাহীম খলিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান জানিয়েছেন, তিনি সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী।
শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইব্রাহীম খলিলের হলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, এজিএসের কাছে ইতোমধ্যে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। তাঁর এবং রুমমেটের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।