কমনওয়েলথ গেমসে পদক তালিকার শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৩ আগস্ট: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (পিজিডব্লিউপি)- সংক্রান্ত নির্দেশনা আরও স্পষ্ট ও কঠোর করেছে কানাডা সরকার। নতুন নির্দেশনায় ভর্তি, একাডেমিক অগ্রগতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, স্টাডি পারমিটের মেয়াদ এবং পিজিডব্লিউপির যোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) সম্প্রতি হালনাগাদ এ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এগুলো নতুন কোনো নীতি নয়; বরং বিদ্যমান নিয়মের আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো কমপ্লিশন লেটার, ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রদান করলেই ওই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়েছে বলে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখিত তারিখই কোর্স সমাপ্তির সরকারি তারিখ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আইআরসিসি জানিয়েছে, স্টাডি পারমিটে নির্দিষ্ট কোনো ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশন (ডিএলআই)-এর নাম উল্লেখ থাকলে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের আগে অবশ্যই নতুন স্টাডি পারমিট নিতে হবে। নতুন পারমিট ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করলে সেটি অনুমতিবিহীন অধ্যয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একই শিক্ষাস্তরে অন্য কোনো প্রোগ্রামে পরিবর্তন করলে সাধারণত নতুন স্টাডি পারমিটের প্রয়োজন হবে না, যদি পারমিটে অতিরিক্ত কোনো শর্ত না থাকে। এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে গেলেও নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে নতুন স্টাডি পারমিট নিতে হবে।
হালনাগাদ নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির ওপরও কড়া নজরদারির কথা বলা হয়েছে। ১৫০ দিনের অনুমোদিত শিক্ষা বিরতির নিয়ম বহাল থাকলেও এখন অভিবাসন কর্মকর্তারা একাধিকবার বিরতি নেওয়ার কারণ এবং শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কোর্স শেষ করার মতো অগ্রগতি করছেন কি না, তা মূল্যায়ন করবেন।
এদিকে নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ক পারমিটধারীদের স্টাডি পারমিট ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগও শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৭ জুন চালু হওয়া এ সংক্রান্ত অস্থায়ী নীতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৭ জুন শেষ হওয়ায় এখন থেকে ওই সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নীতি ঘোষণা না হলেও বিদ্যমান নিয়মের ব্যাখ্যায় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কানাডায় পড়তে আগ্রহী এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করার পাশাপাশি স্টাডি পারমিট ও পিজিডব্লিউপির সব শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।