বেরোবিতে কেন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল ছাত্রদল-শিবির
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবিরের আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের…
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: মিয়ানমারে বন্দী সাবেক রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক সরকার। সোমবার রাজধানী নেপিডোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে সু চির অবস্থান ও স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে জান্তার এই ঘোষণা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মিয়ানমারে আইসিআরসির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেক নেপিডোতে সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, কতক্ষণ ধরে এটি চলেছে কিংবা সু চির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই তিনি বন্দী রয়েছেন। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর অবস্থান, স্বাস্থ্য এবং বন্দিত্বের পরিস্থিতি নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতা বা কূটনীতিক প্রকাশ্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
গত এপ্রিলের শেষ দিকে সামরিক সরকারের আয়োজিত নির্বাচনের পর সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন। এরপর কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সু চিকে গোপন কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এর কিছুদিন পর, ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সু চির একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিতে তাঁকে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে দুই ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ছবিটির সত্যতা নিয়ে দ্রুতই প্রশ্ন ওঠে।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেকের সঙ্গে করমর্দন করছেন অং সান সু চি। ৩ আগস্ট, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
এর পরই সু চির ছেলে কিম অ্যারিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের জীবিত থাকার স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানান। তিনি লেখেন, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর মায়ের জীবিত থাকার কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কিম অ্যারিস বলেন, তাঁর ৮১ বছর বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মাকে এক গোপন স্থান থেকে আরেক গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়াকে স্বাধীনতা বলা যায় না। তাঁর ভাষায়, “তিনি এখনো জিম্মি। তিনি যে জীবিত আছেন, তার প্রমাণ দেখান।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গৃহবন্দী করার ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে সামরিক সরকার। এরপর থেকে পরিবার বারবার জানতে চেয়েছে, সু চি কোথায় আছেন, কেমন আছেন এবং তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না।
সম্প্রতি মিন অং হ্লাইংকে ভারত যে উষ্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা দিয়েছে, তাতেও হতাশা প্রকাশ করেন কিম অ্যারিস। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের প্রতি মানবাধিকারের পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতিতে উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন মামলায় অং সান সু চিকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে দুটি সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় তাঁর সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে নির্জন কারাবাস থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে সামরিক সরকার দাবি করে।
কেন এখন এই বৈঠক?
বিশ্লেষকদের মতে, সু চির সঙ্গে আইসিআরসি প্রতিনিধির সাক্ষাতের ঘোষণা কেবল মানবিক উদ্যোগ নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হিসাবও থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সু চির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। একই সময়ে তাঁর জীবিত থাকা নিয়ে পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশ্নও জোরালো হয়েছে।
এ অবস্থায় রেড ক্রস প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের খবর প্রকাশ করে সামরিক সরকার আন্তর্জাতিক সমালোচনা কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সু চিকে গৃহবন্দী রাখার দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরারও এটি একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে বৈঠকের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ না হওয়ায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র:দ্য ইনডিপেনডেন্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au