জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে নিহত ২, নিখোঁজ ৪
শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জাপানের পূর্বাঞ্চল। প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে…
লক্ষ্মীপুর শহরের চারটি জুয়েলার্স থেকে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণের গহনা নিয়ে রণজিত পাল নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘পাল শিল্পালয়’ খোলা রেখেই তিনি চলে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ভাড়া বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
রণজিত পাল লক্ষ্মীপুর পৌর বাজারের স্বর্ণকার সড়কে অবস্থিত ‘পাল শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি শহরের শাঁখারীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।
স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর বাজারে ব্যবসা করে আসছেন রণজিত পাল। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে বাজারের অন্য জুয়েলার্স মালিকদের সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যবসায়ী প্রয়োজন হলে অন্য দোকান থেকে গহনা এনে সম্ভাব্য ক্রেতাদের দেখান এবং বিক্রি শেষে তা সংশ্লিষ্ট দোকানে ফেরত দেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোমবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে রণজিত পাল গ্রাহকদের দেখানোর কথা বলে চারটি জুয়েলার্স থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের গহনা নেন। সব মিলিয়ে ওই গহনাগুলোর পরিমাণ প্রায় ২২ ভরি। তবে গহনা নেওয়ার পর তিনি আর সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে ফেরত দেননি। পরে নিজের দোকান খোলা রেখেই তিনি নিখোঁজ হন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার ব্যবসায়ী হলেন ‘তমা শিল্পালয়’-এর পলাশ কুরী, ‘বণিক শিল্পালয়’-এর সাগর বণিক, ‘পুনম শিল্পালয়’-এর ঝুটন কুরী এবং ‘শিবানী শিল্পালয়’-এর অসীম কর। তাঁরা রণজিত পাল স্বর্ণালংকার নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন অভিযোগ করে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, চার ব্যবসায়ীর স্বর্ণালংকার নিয়ে একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার পর রণজিত পালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সোমবার রাত ১০টার দিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নিতে তাঁদের বলা হয়েছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au