শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশের বাজারে অধিকাংশ সবজি, মুরগি ও ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যায় কৃষিজমি ও খামারের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবুও অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
রাজধানীর মিরপুর-১ কাঁচাবাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম এখনও কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। দেশি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। কয়েকদিন আগেও কোথাও কোথাও এটি ৪০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তিন দিন আগের তুলনায় অনেক সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। তবে বন্যার কারণে আড়তে সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তাদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে মরিচের গাছ নষ্ট হওয়ায় প্রতি বছরই কাঁচা মরিচের দাম বাড়ে। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত থেকে মরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
মরিচ বিক্রেতা মো. জুলহাস বলেন, দুই দিন আগেও প্রতি ৫ কেজি মরিচের পাল্লা ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। তবে পরিবহন ও পচনজনিত ক্ষতির কারণে খুব কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে আলু, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে দেশি ও ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৬০ টাকা, লাল ও সাদা আলু ৩০ টাকা, বগুড়ার আলু ৪০ টাকা, দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, সংরক্ষণে থাকা অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। ১০০ কেজি পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে অনেক সময় ৩০ কেজির মতো নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৭ থেকে ১৯৭ টাকা, কক মুরগি ৩১৫ থেকে ৩২০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা মো. রমিজ বলেন, বন্যার কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। পাশাপাশি খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত কম।
অন্য বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন লোকসানের কারণে অনেক খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিলেন। এখন চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ না থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বিক্রেতা মো. সুলতান, যিনি বন্যাকে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ টাকা, সাদা ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও কয়েকদিন আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, তবুও দাম এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।
ডিম বিক্রেতা মো. রিফাত খান বলেন, বন্যার কারণে অনেক খামার এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে ডিমের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে মো. সামিউল ইসলাম জানান, মাত্র ২০ দিন আগেও ডজনপ্রতি ডিমের দাম প্রায় ২০ টাকা কম ছিল। পাইকাররা বৃষ্টি, রাস্তার ক্ষতি এবং শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলে দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
তবে হেলাল ডিমের আড়তের এক বিক্রেতা দাবি করেন, ডিমের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তার মতে, আড়ত পর্যায়ে কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ডিমের দাম দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে।
অন্যদিকে মুদি পণ্যের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও পোলাওয়ের চালের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২৩৩ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল ১৬০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চালের দাম প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজি, ডিম ও মুরগির বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আমদানি বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া এবং আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au