‘বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাই’: শেখ হাসিনা
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- আজ ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী চিন্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তিত্ব ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ (৭ আগস্ট ১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্ষা ছিল তাঁর প্রিয় ঋতু, আর সেই বর্ষার দিনেই চিরবিদায় নেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই অনন্য স্রষ্টা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবিই নন, তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সংগীতস্রষ্টা, চিত্রশিল্পী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক। মাত্র আট বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যান, যা বিশ্বসাহিত্যে বাঙালির মর্যাদাকে নতুন পরিচয় দেয়। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র, শিশুসাহিত্য থেকে শুরু করে সংগীত ও চিত্রকলায় তাঁর সৃজনশীলতার স্বাক্ষর আজও সমানভাবে উজ্জ্বল।
১৯১৩ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলির জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিশ্বদরবারে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনের মূলভিত্তি ছিল মানবতা, স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং প্রকৃতিপ্রেম। তাঁর রচিত হাজারো গান আজও বাঙালির সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ ও দেশপ্রেমের অনুভূতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ তাঁরই সৃষ্টি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছিল।
শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্য। তিনি নতুন শিক্ষাদর্শের ভিত্তিতে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কৃষিঋণ ব্যবস্থা চালু এবং পল্লী উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বিশ্বজুড়ে মানবিক প্রতিবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ১৪তম। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (৭ মে ১৮৬১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর পরিবারে তাঁর জন্ম। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় সমৃদ্ধ পারিবারিক পরিবেশ তাঁর সৃষ্টিশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীকালে বাংলার নদী-নালা, প্রকৃতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় তাঁর সাহিত্যকে আরও গভীর ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তোলে।
রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের আট দশকেরও বেশি সময় পরও তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও মানবমুক্তির বাণী সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁরই ভাষায়, “শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে?”। দেহের অবসান হলেও তাঁর চিন্তা, সৃজনশক্তি এবং মানবতার বার্তা আজও নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করছে।
বিশ্বকবির ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গীতিনাট্য ‘শ্যামা’ মঞ্চস্থ করবে ছায়ানট। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
প্রয়াণবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই চিরন্তন আলোকবর্তিকাকে। তাঁর অমর সৃষ্টি ও মানবতার বাণী যুগে যুগে বাঙালির প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au