১২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েও কেন বন্ধ হলো জাকারবার্গ–চ্যানের স্কুল?। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পারিবারিক সহায়তা এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য প্রাইমারি স্কুল’ ১০ বছর পর কার্যক্রম বন্ধ করেছে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের স্ত্রী ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. প্রিসিলা চ্যানের সহপ্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই) থেকে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন পেয়েও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।
২০১৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট পালো অল্টোতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি চলতি বছরের জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে এপ্রিল মাসে পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতি ক্রমে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পর সিজেডআই আর অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে না বলে জানানো হয়।
পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জ্যাঁ-ক্লোদ ব্রিজার্ড বলেন, স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হলেও প্রধান অর্থদাতার সমর্থন ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সিজেডআই জানিয়েছে, বিদ্যালয়টি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের এবং তারা পরিচালন ব্যয়ের চেয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
দ্য প্রাইমারি স্কুলের বিশেষত্ব ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তাকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা। শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দাঁতের চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ সুবিধা পেত। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন এমন শিশুদেরও শনাক্ত করতেন।
তবে এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও একাডেমিক ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের বসন্তে তৃতীয় শ্রেণি বা তার ওপরে পড়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৬ শতাংশ ভাষাজ্ঞান-সংক্রান্ত নির্ধারিত মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এ হার ছিল ৪৭ শতাংশ।
বিদ্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন, একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহায়তা পরিচালনার জটিলতা এবং নতুন শিক্ষা মডেল বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠানটির বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রিসিলা চ্যানও গত বছর স্বীকার করেছিলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
সিজেডআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দাতব্য কার্যক্রমের অগ্রাধিকার পরিবর্তন হয়েছে। এখন তারা শিক্ষা ও সামাজিক প্রকল্পের তুলনায় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন আর অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।
তবে বিদ্যালয় বন্ধ হলেও শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর সহায়তায় ৫ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে সিজেডআই। এই অর্থ থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সঞ্চয় হিসাব, স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনকে সহায়তা এবং অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যয় বহন করা হচ্ছে। প্রায় ৫৪০ শিক্ষার্থীকে রেভেন্সউড সিটি এলিমেন্টারি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে বড় অঙ্কের অর্থায়ন থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি শিক্ষা প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, ধারাবাহিক নেতৃত্ব এবং প্রত্যাশিত শিক্ষাগত ফলাফল নিশ্চিত করার ওপর।