আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’ তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন এ কথা বলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
তার এই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ সদস্যের এমন মন্তব্যের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওটি কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল এবং বক্তব্যটি তিনি কী উদ্দেশ্যে দিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময় স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে তিনি ওই বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্তে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, আর্থিক সুবিধা ছাড়া তিনি মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্ত নিয়েও এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলার তদন্তের সময় তিনি বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি বা স্বাধীন কোনো তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন আরও অভিযোগ করেছেন, এএসআই ইলিয়াস হোসাইন চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে নিজের এলাকার ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থানায় এবং তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগেরও আলাদাভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এএসআই বললেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও নিজের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে ভিডিওতে তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং স্থানীয়দের করা অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত করে দেখার কথা পুলিশের
ভিডিওটি নিয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।’
পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে ভিডিওতে প্রকাশিত বক্তব্য এবং এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
এদিকে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই করে বক্তব্যটির প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au